দুর্ভিক্ষের ইতিহাসেই ভারত-ইংল্যান্ডের যোগসূত্র খুঁজছে যাদবপুর ও এক্সেটার

দুশো বছর ধরে ভারত শাসন করেছে ব্রিটিশরা। ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে দেশ। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক কি পুরোটাই বৈরীতার? ইংল্যান্ডের এক্সেটার ইউনিভার্সিটি এবং যাদবপুর ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে দুই দেশের সম্পর্কের এক অন্য ছবিও সামনে আসতে চলেছে। তবে সেই ছবি সুখসমৃদ্ধ দেশের ছবি নয়। একটি শৈল্পিক আর্কাইভের (Digital Archive) মাধ্যমে দুই দেশের দুর্ভিক্ষের ইতিহাসকে গেঁথে তুলছেন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। মোটামুটি ১৫৫০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া দুর্ভিক্ষগুলির (Famines) ইতিহাস নথিভুক্ত করা হবে, তবে খাতায় কলমে নয়। বরং বাংলার হারিয়ে যেতে বসা পটশিল্পকেই বেছে নিয়েছেন গবেষকরা।

৯ নভেম্বর এক্সেটার ইউনিভার্সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আর্কাইভ উদ্বোধনের দিন স্থির করা হয়েছে। গবেষণার কাজে রয়েছেন এক্সেটার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আয়েষা মুখার্জি, যাদবপুর ইউনিভার্সিটির (Jadavpur University) তুলনামুলক সাহিত্য বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সুজিত কুমার মণ্ডল, প্রফেসর সামন্ত্যক দাস এবং ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর অভিজিৎ গুপ্ত। এছাড়াও রয়েছেন দুই ইউনিভার্সিটির বেশ কয়েকজন গবেষক এবং পড়ুয়াও। সাহিত্যের নানা নথি থেকে তাঁরা দুর্ভিক্ষ এবং আকালের ইতিহাস সংগ্রহ করছেন। আর সেইসব ইতিহাসকে রেখায় রঙে সাজিয়ে তুলছেন দুখুশ্যাম চিত্রকর।


দুর্ভিক্ষ পৃথিবীর প্রতিটা দেশেই নানা সময়ে হানা দিয়েছে। কিন্তু ভারত আর ইংল্যান্ডের ভাগ্য যেন এক্ষেত্রেও একই সূত্রে গাঁথা। দুই দেশে দুর্ভিক্ষের প্রভাব পড়েছে প্রায় একই সময়ে। আর এক দেশের দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতা অন্য দেশকে প্রভাবিতও করেছে। এভাবেই দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের পথেও ভূমিকা রেখেছে দুর্ভিক্ষের ঘটনাগুলি। আর এই কারণেই আর্কাইভের ক্ষেত্রে এই দুই দেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির তালিকায় ভারতসেরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

অন্যদিকে বাংলার চিরাচরিত পটশিল্পও এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে মধ্যযুগের এইসমস্ত ঘটনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য পটশিল্পের চেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম আর কীই বা হতে পারে? সেইসময় তালপাতায় আঁকা ছবিগুলিই ছিল ইতিহাসের দলিল। তাই আজ ইতিহাসকে ফিরে দেখতে গিয়েও সেই ঐতিহ্যের কাছেই হাত পাতছেন গবেষকরা। এভাবে একটা সামাজিক সেতুও তৈরি হতে চলেছে। যে সেতু ফুল্লরার ভোজের সঙ্গে শেক্সপিয়ারের দেশের দুর্ভিক্ষকে মিলিয়ে দিতে পারে। এই উদ্যোগ সাহিত্য এবং ইতিহাস দুই বিষয়েরই একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশাবাদী গবেষকরা।

আরও পড়ুন
যাদবপুরকে টপকে সেরার তালিকায় চতুর্থ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

Powered by Froala Editor

আরও পড়ুন
রেলের শতবর্ষ-প্রাচীন টাইমটেবিল এবার ডিজিটাল আর্কাইভে

Latest News See More