বিপন্নপ্রায় প্রাণীদের অবলুপ্তি ঠেকাতে গণ-ভ্যাকসিনেশনের পথে বিজ্ঞানীরা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ভ্যাকসিন শব্দটি মিশে গেছে আমাদের দৈনন্দিনের জীবনে। হয়ে উঠেছে এই সংকটকালীন সময়ের অন্যতম ভরসা। তবে শুধুই কি মানুষ? বরং, মানুষের পাশাপাশি অস্তিত্বের সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। একদিকে যেমন বাসস্থান হারানো তাদের ঠেলে দিচ্ছে সংকটের দিকে, তেমনই বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবও তাদের কাছে অবলুপ্ত হওয়ার হুমকি-সম। এবার বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীদের সংরক্ষণে তাই টিকাকরণ শুরু করলেন বিজ্ঞানীরা।

বন্যপ্রাণীদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনেশন নতুন কিছু নয়। পোষ্য কুকুরকে জলাতঙ্ক বা র্যা বিসের টিকা দেওয়া তো বটেই, তাছাড়াও বিভিন্নক্ষেত্রে বন্যপ্রাণীদের টিকাকরণ করা হত ব্যাপকভাবে। বুনো শুয়োর সোয়াইন ফ্লু’র টিকা, হোয়াইট টেইলড ডিয়ারকে যক্ষ্মার টিকা দেওয়া হত। তবে তার অন্যতম কারণ ছিল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রাণঘাতী রোগের জীবাণুর এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে সংক্রমণ আটকাতেই এই ব্যবস্থা। কিন্তু বন্য প্রজাতি সংরক্ষণে টিকার ব্যবহার এক দশক আগেও ছিল কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি। 

২০১৫ সাল। নিউ ইয়র্কে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক সভায় বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের সংরক্ষণের জন্য টিকাকরনের পক্ষে সওয়াল হন বিজ্ঞানীরা। তবে একই সঙ্গে প্রাণী অধিকার নিয়েও সেসব বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন বহু সমাজকর্মী। শেষ পর্যন্ত অবশ্য অনুমোদন পেয়েছিল বন্যপ্রাণীর ভ্যাকসিন। 

সর্বপ্রথম, উত্তর আমেরিকার বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী ‘প্রেইরি ডগ’-এর ওপর প্রয়োগ করা হয় ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস বা প্লেগের ভ্যাকসিন। পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়ায় বাদুড়, অ্যামাজনের গোল্ডেন ফ্রগ, কিউবার ট্রি ফ্রগের ওপরেও চালানো হয় ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া। সম্প্রতি কোয়ালাদের জন্য বৃহত্তরভাবে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। আর গোটা প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধান করছেন কুইনল্যান্ড সানসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

আরও পড়ুন
এই হ্রদের জলে নামলেই পাথর হয়ে যায় জীবিত প্রাণী!

সমীক্ষা জানাচ্ছে, ৮০ শতাংশ কোয়ালাই আক্রান্ত হয় ক্ল্যামিডিয়া নামের একটি মারণ রোগে। এই রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসটি মূলত সংক্রমিত হয় যৌন মিলনের সময়। যার কারণে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি, সিস্ট এমনকি পরবর্তীতে অন্ধত্বের দিকেও চলে যায় বিপন্নপ্রায় এই প্রজাতিটি। আর তা আটকাতেই এবার অভিনব এই উদ্যোগ অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের। 

আরও পড়ুন
সুন্দরবনে নতুন অঙ্গুরিমাল প্রাণী আবিষ্কার প্রেসিডেন্সির গবেষকদের

তবে খুব একটা সহজ নয় কারণ বন্যপ্রাণীর ভ্যাকসিনেশনের এই প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ভ্যাকসিনেটেড প্রাণীদের চিহ্নিতকরণ। কোন প্রাণীগুলি টিকাকরণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ল, তা আলাদা ভাবে সনাক্ত করার এখনও কোনো বিশেষ পদ্ধতির হদিশ দিতে পারেনি বিজ্ঞান। তবে রিপোর্ট বলছে, সামগ্রিকভাবে বন্যপ্রাণীর টিকাকরণের এই কর্মসূচি অনেকটাই কমিয়ে আনছে মৃত্যুর হার। ভবিষ্যতে এই ভ্যাকসিনেশনই তাদের প্রাকৃতিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আটকাতে পারে বলেই আশাবাদী গবেষকরা…

আরও পড়ুন
পোষ্য প্রাণীদের দূরে সরিয়ে দেবেন না, আগলে রাখুন মহামারীতেও

Powered by Froala Editor