পরিবেশকে শুশ্রূষা দিল লকডাউন, আবার ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেব না তো আমরা?


কুইজ বা সাধারণ জ্ঞানে যে প্রশ্নগুলো আসে, তার মধ্যে একটা প্রশ্ন অত্যন্ত কমন। ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে?’ আমরা সবাই সেসব মুখস্থ করে চলে যাই পরীক্ষা দিতে। এমনভাবেই বইয়ের পাতা ওলটানোর মতো পৃথিবী থেকেও চলে যায় ৫ জুন। প্রতিবার নতুন করে পরিবেশ নিয়ে জেগে ওঠার আশায় থাকি। কিন্তু হয়ে ওঠে কি?

অবশেষে ২০২০-র বিশ্ব পরিবেশ দিবসও চলে এল। এই বছর গোটা বিশ্ব প্রায় থমকে আছে একটা ছোট্ট ভাইরাসের কারণে। করোনার থাবা থেকে এত সহজে মুক্তি মিলবে না, জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরাও। কিন্তু সে তো আমাদের কথা। মানুষের কথা। কিন্তু পরিবেশ? এমন দুর্যোগের ঘনঘটায় পরিবেশের খবর কী? 

মার্চ মাস থেকেই সমস্ত খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিল করোনা এবং লকডাউন। চিন থেকে ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ভারত— সমস্ত জায়গায় স্তব্ধ হয়ে গেল জীবন। রাস্তার পাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল গাড়ি। চলাচল করা বারণ যে! কারখানাও বন্ধ। কর্পোরেট সেক্টরের সেই চিরাচরিত ভিড় এবং চিমনির কালো ধোঁয়া দেখা গেল না। এসবের পাশাপাশি আরও কিছু খবর আমাদের নজর কাড়ল। কোথাও হরিণ ঢুকে পড়ছে, কোথাও ফিরে আসছে বিরল প্রাণীরা। পাখিদের আনাগোনা বেড়ে গেল সমস্ত জায়গায়, নদীতে হাজির হল নতুন নতুন মাছ। গাছের পাতাও যেন অনেকটা বেশি সবুজ। পেট্রোলের বদলে ফুলের গন্ধে মেতে আছে রাস্তা, গলি… 

আরও পড়ুন
সাইকেলের ব্যবহার বাড়লে ভালো থাকবে কলকাতাও

আমাদের ‘স্বাভাবিক জীবন’ স্তব্ধ; কিন্তু প্রকৃতি নিজেকে ঠিক খুঁজে নিয়েছে এই লকডাউনে। অনেক দূরে যে বড়ো হলুদ বাড়িটার গায়ে রোদ পড়েছে, কই এতদিন তো সেটা দেখা যেত না! নির্ভয়ে রাস্তায় খেলে বেড়াচ্ছে শালিকের দল। নদীতে জাহাজ, বোট, নৌকার বাড়বাড়ন্ত নেই বলে স্বস্তি পেয়েছে জলজ প্রাণীরাও। জলও সুস্থ হয়েছে সেখানে। প্রকৃতিকে এত ভালোভাবে কবে পেয়েছি আমরা? দূষণ আমাদের কীভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, সেটা কি এবার বুঝতে পারছি? পৃথিবীর সমস্ত কোণায় দূষণের মাত্রা নেমে গেছে মার্চের শুরু থেকেই। ভারতে লকডাউন শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২০-র পরিবেশ দিবসে তাই প্রকৃতি সত্যিকারের ভালো জায়গায় রয়েছে, সেটা বলাই যায়। 

আরও পড়ুন
পাহাড়ের ওপর পাতা হবে রেললাইন, ‘নেটিভ’ শ্রমিকদের ওপর অকথ্য নির্যাতন ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারের

কিন্তু বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, সেটাই বা কতদিন? কারখানা একদিন খুলতেই হবে, রাস্তায় যানবাহন নামবেই একদিন। তখন পরিবেশ আবার এই রূপ হারাবে। আবারও দূষণের মাত্রা বাড়বে। এমনিতেই বন-জঙ্গল পুড়ে যাচ্ছে; সেই সঙ্গে চলছে যথেচ্ছ গাছ কাটা। মানুষের সভ্যতার এই ব্যাপক অগ্রগতি বিপদে ফেলছে পুরো পরিবেশকেই। আসলে দিনের শেষে নিজেদের কবর নিজেরাই খুঁড়ছি আমরা। বিশ্ব উষ্ণায়নের ছায়া পড়েছে সর্বত্র। ভালো খবরের পাশাপাশি খারাপ খবরও উঠে আসছে। কাজেই সবার আগে আমাদের ঠিক হওয়া দরকার। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করেই সভ্যতাকে এগিয়ে যেতে হবে। পরিবেশ দিবসে, এই করোনার মধ্যেই এই অঙ্গীকারই হোক আমাদের পাথেয়। 

আরও পড়ুন
১০৪ বছর আগেও 'বিনোদনে’র শিকার, প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল একটি মাদী হাতিকে

Powered by Froala Editor

আরও পড়ুন
২৬০০ ফুটের খাড়াই সিঁড়ির ওপরে কেটেছে ২০০ বছর, অবশেষে পুনর্বাসন গ্রামবাসীদের

Latest News See More