চাষের জমি থেকে উদ্ধার জৈন তীর্থঙ্করের মূর্তি, গবেষণায় ঐতিহাসিকেরা

শুধু মাটির ওপরেই নয়; ভারতের অনেক ইতিহাস, অনেক নিদর্শন আজও মাটির নিচে আত্মগোপন করে আছে। মহেঞ্জোদাড়োর স্তূপের মতোই হঠাৎ ঐতিহাসিকদের সামনে এসে হাজিরা দেয় তারা। সম্প্রতি তেলেঙ্গানায় ঘটল তেমনই একটি ঘটনা। চাষের জমি থেকে উঠে এল হাজার বছরের পুরনো জৈন তীর্থঙ্করের মূর্তি। যা রীতিমতো সাড়া ফেলেছে ঐতিহাসিকদের মধ্যে। 

অন্যান্য দিনের মতোই তেলেঙ্গানার করিমনগরের কোটলানরসিংহুলাপল্লী গ্রামে নিজের জমিতে চাষের কাজ শুরু করেছিলেন ওগু আনজাইয়া। বর্ষাকাল তো এসেই গেছে, কাজেই চাষের ব্যস্ততা তো বাড়বেই। নিজের ট্র্যাক্টর নিয়ে কাজ করছিলেন; হঠাৎই জমির নিচ থেকে কিছু একটা উঠে আসতে দেখেন। ট্র্যাক্টরের চাপে মাটিশুদ্ধ উঠে এসেছে সেই জিনিস। ধ্যানস্থ সেই মূর্তি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। কিছু পরে পুজোও শুরু হয়ে যায়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আর্কিওলজিকাল ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে এসে মূর্তিটি উদ্ধার করেন। 

প্রাথমিক পরীক্ষার পর প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিকরা জানিয়েছেন, এই মূর্তিটি এক জৈন তীর্থঙ্করের মূর্তি। ২৪ জন তীর্থঙ্করের মধ্যে কার, সেটা এখনও নিশ্চিত নন তাঁরা। তবে ঋষভনাথ এবং মহাবীরের মধ্যে একজনের হতে পারে এই মূর্তি। ঐতিহাসিকরা মনে করছেন, সম্ভবত অষ্টম থেকে নবম শতাব্দীতে তৈরি হয়েছিল এই মূর্তি। আপাতত আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষণার কাজে মন দিয়েছেন তাঁরা। খুব শীঘ্রই মূর্তি মিউজিয়ামে পাঠানো হবে।  

তবে এই মূর্তি উদ্ধার ঐতিহাসিকদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। যে জায়গা থেকে মূর্তিটি উদ্ধার হয়েছে, সেই গ্রাম থেকে এর আগেও বেশ কিছু মূর্তি পাওয়া গেছে। আর প্রায় সবকটিই জৈন তীর্থঙ্করদের মূর্তি। ঐতিহাসিকদের ধারণা, হয়ত এই অঞ্চলে আগে জৈনদের একটা বড়ো অস্তিত্ব, জৈন বিহার ইত্যাদি ছিল। এই এলাকার কাছেই রয়েছে মুনুলাটুট্টা, যা রাষ্ট্রকূট বংশের প্রথম রাজধানী। এই রাজবংশের শাসকরা জৈন ধর্মের উপাসক ছিলেন। কাজেই নিজের রাজধানীর চারপাশে জৈন ধর্মের বিস্তারের জন্য তাঁরা স্থাপত্য, মূর্তিও নিশ্চয়ই তৈরি করেছিলেন। এই তথ্যটির ওপরেই জোর দিচ্ছেন ঐতিহাসিকরা।  

ছবি ঋণ- দ্য নিউজ মিনিট 

আরও পড়ুন
সুদূর ভিয়েতনামে উদ্ধার ১১০০ বছরের প্রাচীন শিবলিঙ্গ

Powered by Froala Editor

আরও পড়ুন
দুর্গের ভেতরে প্রাচীন মন্দির ও মূর্তির হদিশ, উচ্ছ্বসিত ঐতিহাসিকরা