যিশুর জন্মস্থানের কাছেই উদ্ধার অসংখ্য শিশুর কঙ্কাল, বাইবেলেই আছে গোপন রহস্যের ইঙ্গিত

যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থান জেরুজালেমের পাশেই পাহাড়ের পাদদেশে আছে এক রহস্যময় স্থান। জায়গাটিকে অনেকে বলেন টফেট। প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে একটি কবরস্থান। এমন বীভৎস কবরস্থান দেখলে সত্যিই অবাক হতে হয়। তামা আর পিতলের ছোট ছোট পাত্রের মধ্যে আছে অসংখ্য ছাগল, গরুর দেহ। আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়, এর সঙ্গেই আছে অসংখ্য শিশুর মৃতদেহ। তাদের কেউ একেবারেই সদ্যোজাত, কারোর বয়স কয়েক সপ্তাহ। তবে একবছরের থেকে বেশি বয়স নয় কারোরই। এই সমাধিক্ষেত্র থেকে এখনও অবধি অন্তত ২০ হাজার শিশুর কঙ্কাল উদ্ধার করেছেন গবেষকরা।

বিশ শতকের শুরুতে এই সমাধিক্ষেত্র উদ্ধার করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। তারপরেই উঠে আসে অসংখ্য প্রশ্ন। পাহাড়ের পাদদেশে এমন ভয়ঙ্কর সমাধিক্ষেত্র কে বা কারা তৈরি করেছিলেন? কেনই বা এখানে পশুদের সঙ্গে শিশুদের এমন সহাবস্থান? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের ফিরে যেতে হবে বাইবেলের একটি বর্ণনায়। সময়টা খ্রিস্টপূর্ব নবম থেকে সপ্তম শতক। জেরুজালেম তখন ক্যাথারজিয়ান সাম্রাজ্যের অধীনে। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে এক অদ্ভুত পৈশাচিক ধর্মীয় রীতি প্রচলিত ছিল। অপদেবতাকে তুষ্ট করতে সদ্যজাত শিশুদের বলি দিতেন সেখানকার মানুষ। তারপর বলি প্রদত্ত অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গেই তাদের শরীর শায়িত রাখা হত এই সমাধিক্ষেত্রে।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য শিশু বলি দেওয়ার ঘটনা তো শুধু জেরুজালেমেই নয়, পৃথিবীর নানা দেশে এমন অসংখ্য প্রথার সন্ধান পাওয়া যায়। আজকাল এমন ঘটনা শুনলে বিস্ময়ে স্তম্ভিত হতে হয়। তবে তখন শিশুদের অভিভাবকরাও যেন দ্বিধা করতেন না তাদের বলি দিতে। অথবা রাজা ও পুরোহিতরা বলপূর্বক ধরে নিয়ে আসত শিশুদের।

অবশ্য প্রত্নতাত্ত্বিক জেফ্রি স্কোয়ার্টজ এবং তাঁর সহযোগীরা মনে করেন, এখানে বলি দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটত না। ক্যাথার্জিয়া সাম্রাজ্যে শিশুমৃত্যু ছিল এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আর সেইসব শিশুদের সমাধিস্থ করা হত এখানে। বলা বাহুল্য, তাহলে শিশুদের সঙ্গে পশুদের সহাবস্থানের কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই ঐতিহাসিকরাও এই মত মেনে নেননি। তাছাড়া বাইবেলের বর্ণনায় অনেক কল্পনার মিশ্রণ থাকলেও, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এমন মনে করার কোনো কারণও নেই।

আরও পড়ুন
দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র থেকে উদ্ধার শিশুর কঙ্কাল

Powered by Froala Editor

More From Author See More

Latest News See More