বয়স মাত্র উনিশ, শুটিং রেঞ্জ ছেড়ে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই তারকা বঙ্গতনয়ার

“এই বছর জানুয়ারি মাসেও আসানসোলে একটা টুর্নামেন্টে ও খেলেছিল। মাত্র দু’দিন প্র্যাকটিস করে ও ফোর্থ হল সেই ম্যাচে। ঠিক তারপরেই আবার শরীর খারাপ হয় ওর। পরীক্ষা করতে দেখা যায় ক্যানসার কোষ আবার ছড়িয়ে পড়েছে শরীরে।” 

বলছিলেন সুমনা কর্মকার। আর কথাগুলো বলার সময় অদৃশ্য কোনো শক্তি যেন কণ্ঠরোধ করে দিচ্ছিল তাঁর। তিনি, রাজ্যের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ শুটার রীতিকা কর্মকারের মা। ঠিক কতটা ঝড়-ঝঞ্ঝা বয়ে যাচ্ছে তাঁর ওপর দিয়ে, তা নতুন করে বলার নেই কিছুই। তা সত্ত্বেও ভেঙে না পড়ে, রীতিকার সঙ্গেই একইভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

২০১৯ সালের নম্ভেবর মাস। হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন রীতিকা। উত্তরোত্তর বাড়ছিল জ্বর। সেইসঙ্গে খিঁচুনি। সেসময় রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ শিখরে। পরিবারের সদস্যরা তো বটেই এমনকি চিকিৎসকেরও প্রাথমিক ধারণা ছিল ডেঙ্গুতেই আক্রান্ত হয়েছেন রীতিকা। তবে ব্লাড রিপোর্ট হাতে আসতেই অন্ধকার নেমে আসে দমদমের কর্মকার বাড়িতে। ডেঙ্গু নয়, মাইলয়েড লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে রীতিকা। বিরল ব্লাড ক্যানসারে।

সেই সময়টায় শুটিং রেঞ্জে নজরকাড়া পারফর্মেন্স মেলে ধরেছেন রীতিকা। স্কুল এবং রাজ্য স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি, একাধিক পদক তো ছিলই; পাশাপাশি জাতীয় মিটের যোগ্যতাও অর্জন করে নিয়েছিলেন বঙ্গতনয়া। কিন্তু অসুস্থতার কারণেই আর হয়ে উঠল না স্বপ্নপূরণ। শুটিং রেঞ্জের বদলে সঙ্গী হয়ে উঠল হাসপাতাল বেড। শুরু হয় কেমোথেরাপি। চিকিৎসার জেরেই ধীরে ধীরে সুস্থও হয়ে ওঠেন রীতিকা। 

আরও পড়ুন
ক্যানসারকে বারবার রুখেই দু-দশকের শিল্পীজীবন, অর্থাভাবে চিকিৎসাহীন কোয়েল

গত বছর এপ্রিল মাসে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের শুটিং কোচিং-এ ধীরে ধীরে প্রত্যাবর্তনও করছিলেন রীতিকা। কিন্তু মারণ ব্যাধি যে আবার জাল বিছিয়েছে বছর উনিশের তরুণীর শরীরে, তা আর কে জানত।

আরও পড়ুন
অকারণ সিটি-স্ক্যানে হাতছানি ক্যানসারের!

“জানুয়ারির ওই টুর্নামেন্টের পরই চিকিৎসা শুরু হয় ওর। ফেব্রুয়ারিতে ডাক্তার একটা টেস্ট কেমোও দিয়ে দেখেছিলেন। সব মিলিয়ে এই নিয়ে সাতবার কেমোথেরাপি হয়েছিল রীতিকার। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন কেমোথেরাপিতে আর কোনো কাজ হবে না। ওর শরীরটা পুরো ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এখন একমাত্র উপায় হল বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট”, জানালেন রীতিকার মা সুমনা কর্মকার। বুজে আসছিল কণ্ঠস্বর।

আরও পড়ুন
মাত্র দুটি ড্রাগের মিলিত প্রয়োগেই সেরে উঠবে ফুসফুসের ক্যানসার, যুগান্তকারী আবিষ্কার

কলকাতার এক প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছে তাঁর। প্রস্তুতি চলছে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের। তবে গোটা প্রক্রিয়াটাই বেশ জটিল। কারণ রীতিকার পাশাপাশি সমানভাবে মেডিকেশন চলছে তাঁর দাদার। কারণ তাঁর শরীর থেকে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করা হবে রীতিকার দেহে। আর তাতে সামান্যতম ম্যাচিং-এর অভাব হলেই প্রাণ সংশয় হতে পারে তরুণ শুটারের। 

এর আগেও লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল রীতিকার চিকিৎসায়। এবারেও শুধুমাত্র বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্যই খরচ হতে চলেছে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। আর সেখানেই প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি। রীতিকার বাবা সামান্য স্বর্ণকার। তবে মহামারীর আবহে জোর ধাক্কা খেয়েছে সেই ব্যবসা। ইতিমধ্যেই রীতিকার পরিবারকে ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ক্রীড়ামহলের একাধিক ব্যক্তিত্বও। তবে এখনও জোগাড় হয়ে ওঠেনি চিকিৎসার খরচের একটা বড়ো অংশ। তাই সাধারণের কাছেই সাহায্যের আর্জি জানাচ্ছেন সুমনা। আর রীতিকা? পুনরায় শুটিং রেঞ্জে ফিরতে বন্ধপরিকর তিনি। দু’চোখে এখনও জ্বল জ্বল করছে অলিম্পিকের স্বপ্ন। একমাত্র সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এখন আবার তাঁকে ফিরিয়ে দিতে পারে সেই স্বাভাবিক জীবন। বঙ্গতরুণীর সেই স্বপ্নপূরণে সাধ্যমতো সাহায্য পাঠাতে পারেন আপনিও। নিচেই রইল সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস…

Bank name: HDFC BANK
Account holder: Sumana Karmakar
Account no. 01061000020492
Savings accounts
IFSC CODE:HDFC0000106

Powered by Froala Editor