দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক তিনি, করোনা-মোকাবিলায় তুলে দিলেন ২৬ লক্ষ পাউন্ড!

একসময় ব্রিটেনের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিলেন টম মুর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লড়াই করেছেন মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে। সেসব বহু আগের কথা। দেখতে দেখতে অনেকগুলো বছর কেটে গেল। আগামী বছর ১০০-তে পা দেবেন ক্যাপ্টেন। কিন্তু এখনও যেন তাঁর কাজের উদ্দীপনা শেষ হয়নি। এই বয়সেও করোনা বিধ্বস্ত ইংল্যান্ডের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন ক্যাপ্টেন মুর। এখনও যে নিজেকে মনেপ্রাণে একজন সেনানী মনে করেন তিনি।

মহামারীর প্রকোপে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ডবাসীর যাবতীয় আশার প্রতিফলন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস। সংস্থার স্থায়ী সদস্যরা তো আছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী। ইংল্যান্ডের সাধারণ মানুষও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন এই সংস্থার প্রতি। অনেকে সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই বিপুল কর্মকাণ্ড চালাতে যে যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন। এনএইচএসের অর্থের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে এলেন ক্যাপ্টেন মুর। ইতিমধ্যে তিনি সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছেন ২৬ লক্ষ পাউন্ড নগদ অর্থ।

বয়সের ভারে নানারকম রোগের শিকার ক্যাপ্টেন মুর। বছর দুয়েক আগে তাঁর মাথার ত্বকে ক্যানসার ধরা পড়েছিল। এর কিছুদিন পর তাঁর কোমরের হাড় বদলাতে হয়। আর এই কঠিন সময়ে তিনি চিকিৎসকদের যে সংগঠনটির কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছেন, তাঁদের পাশে এই মুহূর্তে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করলেন মনে মনে। অতএব অর্থ সংগ্রহের জন্য বেডফোর্ডশায়ারের তাঁর নিজের গ্রামের প্রতিবেশীদের কাছে আবেদন জানালেন কিছু অর্থসাহায্য করার জন্য।

শরীর সুস্থ রাখার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে রোজ বিকালে রাস্তায় হাঁটতে যান ক্যাপ্টেন মুর। এই সময় তিনি প্রতিবেশীদের দরজায় দরজায় গিয়ে আবেদন জানালেন সাহায্যের জন্য। প্রাথমিকভাবে মাত্র একহাজার পাউন্ড অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছিলেন। কিন্তু অন্যান্য মানুষের কাছ থেকেও বিপুল সাড়া পেল তাঁর উদ্যোগ।

ক্যাপ্টেনের মেয়ে হানা মুর দায়িত্ব নিয়েছিলেন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করার। সেখানেও বহু মানুষের উষ্ণ প্রতিক্রিয়া পেয়ে স্বভাবতই খুশি ক্যাপ্টেন মুর এবং তাঁর মেয়ে। অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে হয়েছে তিনবার। প্রথম দফায় ২৬ লক্ষ পাউন্ড অর্থ এনএইচএসের হাতে তুলে দেওয়ার পরেও এখনও তিনি অর্থ সংগ্রহের কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন মুর।

করোনা ভাইরাসের দাপটে সারা পৃথিবীর জনজীবন বিপর্যস্ত। কীভাবে এই মহামারীর প্রকোপ থেকে বাঁচা যাবে, সেই হদিশ এখনও জানেন না কেউই। এদিকে হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসার উপযুক্ত পরিকাঠামো প্রায় কোনো দেশেই নেই। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে সংকটের মোকাবিলায়। এমন পরিস্থিতিতে শতবর্ষ ছুঁতে চলা ক্যাপ্টেন মুর যে দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন, তা হয়তো অনেক মানুষের মনেই আশার সঞ্চার করবে। সেইসঙ্গে নিজেদের মতো করে উদ্যোগ নিতে এগিয়ে আসবেন আরও অনেক মানুষ। এভাবেই একদিন নিশ্চই আমরা এই অন্ধকার সময় পেরিয়ে যেতে পারবো।