গল্প হলেও সত্যি: ভেড়া গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগ এবার বাস্তবেও!

‘এভরি নাইট আই কাউন্ট শিপ/ ফর আ ফিউ মিনিট বিফোর আই গো টু স্লিপ’।

ইংরাজির এই প্রবাদবাক্য অনেকেরই জানা। হ্যাঁ, অনেকে বিশ্বাস করেন এমনটাই। প্রাচীনকালে ভেড়ার সংখ্যা গুনতে গুনতেই নাকি ঘুমিয়ে পড়তেন মেষপালকরা। ইংরাজি সাহিত্যে তা নিয়ে গল্পও রয়েছে কিছু। এবার এই প্রবাদকে হাতিয়ার করেই ব্রিটেনের বুকে গড়ে উঠল ‘শিপ স্যাংচুয়ারি’ বা ‘মেষ অভয়ারণ্য’। ইনসোমেনিয়ায় ভুগলে, দিন কয়েক কাটিয়ে আসতে পারেন সেখানে। ভেড়া গুনতে গুনতেই ঘুম আসবে চোখে। অন্তত এমনটাই দাবি ‘মেষ অভয়ারণ্য’ (Sheep Sanctuary) কর্তৃপক্ষের। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রথম স্লিপ বিএনবি এটিই।

সাসেক্সের (Sussex) পাহাড়ে অবস্থিত এই অভয়ারণ্য আক্ষরিক অর্থেই যেন স্বপ্নরাজ্য। ঘন সবুজ অরণ্য, তিরতিরে নদী, পাহাড়, পুরনো আমলের সাবেকি বাড়ি, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি— সাসেক্সের প্রকৃতি রীতিমতো চমকপ্রদ। আর এই প্রকৃতির স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখতেই বিশেষ ধরনের থাকার ব্যবস্থা করেছে ‘শিপ স্যাংচুয়ারি’ কর্তৃপক্ষ। অরণ্যে ঘেরা তৃণভূমির মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে অনেকটা ইগলু-আকৃতির কাচের গম্বুজ। এই অর্ধ-গোলাকার ঘরের মধ্যে বসে যেমন চারদিকের মনোরম দৃশ্য দেখা যাবে, তেমনই রাতের বেলায় দেখা যাবে অগণিত তারা-ভরা আকাশ। পাশাপাশি কয়েকশো ভেড়ার আবাসস্থল এই খামার, থুড়ি ‘অভয়ারণ্য’। মায়াবী রাতে তাদের সংখ্যা গুনতে গুনতেই চোখ জুড়িয়ে আসবে তাতে আর আশ্চর্য কী? 

ভেড়া গুনলে আদৌ ঘুম আসে কিনা— তা নিয়ে বিতর্ক বহুকালের। একদল গবেষকদের মতে এই প্রবাদ আদতে মিথ। তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আবার কিছু বিজ্ঞানী দাবি করেন, সংখ্যা গুনতে গুনতে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে গেলে, ঘুমের মধ্যে ঢুলে পড়ে। ব্রিটিশ স্লিপ টেকনোলজি কোম্পানি ‘এম্মা স্লিপ’-এর কর্তৃপক্ষ বিশ্বাসী এই ধারণাতেই। বছর কয়েক আগে ২০০০ ব্রিটিশ ব্যক্তির ওপর একটি সমীক্ষা চালিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সমীক্ষায় উঠে আসে, যথাযথ ঘুমতে পারেন না ৪৪ শতাংশ মানুষ। বৈষয়িক চিন্তা বা কাজের চাপই তার কারণ। অনেকক্ষেত্রে এই ঘটনা ইনসোমনিয়ার দিকেও ঠেলে দেয় মানুষকে। 

সমস্যার সমাধান খুঁজতেই এই ‘শিপ স্যাংচুয়ারি’-র পরিকল্পনা ‘এম্মি স্লিপ’-এর। তবে শুধু ভেড়া গোনাই নয়, সাসেক্সের শান্ত বাতাস, সুন্দর প্রকৃতিও ইনসোমনিয়া-আক্রান্ত মানুষকে ঘুমের জগতে ফিরিয়ে আনবে— সে ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী আয়োজকরা। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মেই দরজা খুলে যাবে এই অদ্ভুত অভয়ারণ্যের। সেইসঙ্গে বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলেও জানাচ্ছেন অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষ। জিতলে বিনামূল্যেই পাওয়া যাবে ২ জনের রাত্রিবাসের টিকিট! ঘুমেরও এহেন বাণিজ্যিকরণের দ্বিতীয় উদাহরণ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর…

Powered by Froala Editor