এক বছরে আমাজনের থেকেও বেশি কার্বন শোষণ করছে সামুদ্রিক অরণ্য!

বিজ্ঞানীমহলে পৃথিবীর ফুসফুস হিসাবেই পরিচিত লাতিন আমেরিকার আমাজন অরণ্য। প্রতি বছর প্রায় ১৭০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে আমাজনের বাস্তুতন্ত্র। এবার কার্বন শোষণের দিক থেকে আমাজনকেও ছাড়িয়ে গেল ‘গ্রেট ফরেস্ট অফ ওসান কেল্প’। হ্যাঁ, এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক সমীক্ষা। চলতি বছরে সামুদ্রিক অরণ্যও শোষণ করেছে ১৭০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন।

সংশ্লিষ্ট গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সামুদ্রিক অরণ্যের (Marine Forest) বৃদ্ধি এবং কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করাই ছিল এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য। আর সেখান থেকেই উঠে আসছে, বিগত এক বছরে ক্ষেত্রবিশেষে প্রায় ৪ থেকে ১১ গুণ বেশি উৎপাদিত হয়েছে সামুদ্রিক অরণ্য। যা বড়ো সাফল্য বলেই বিবেচনা করছেন গবেষকরা।

প্রশ্ন থেকে যায়, এই সামুদ্রিক অরণ্য কী? কেনই বা সামুদ্রিক অরণ্যের বিস্তারে উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীমহল? আসলে ভূপৃষ্ঠের মতো সমুদ্রের তলদেশেও জন্ম নেয় বিশেষ কিছু প্রজাতির উদ্ভিদ। যা পরিচিত সি-উইড বা সামুদ্রিক গাছ নামে। সাধারণ উদ্ভিদের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি কার্বন শোষণ করতে সক্ষম এই অরণ্য। ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এই অরণ্য। বছর কয়েক আগে এই তথ্য সামনে আসতেই সামুদ্রিক অরণ্য সংরক্ষণ ও কৃত্রিমভাবে উৎপাদনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন গবেষকরা। এবার যেন সাফল্যের মুখ দেখতে চলেছে সেই প্রকল্প।

পরিবেশগত দিক থেকে দেখতে গেলে ক্রান্তীয় অঞ্চলে এই উদ্ভিদ বৃদ্ধি পায় সবচেয়ে বেশি। তাই আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় এই ধরনের উদ্ভিদ দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। সমীক্ষাতেও উঠে এসেছে তেমনটাই। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন থেকে নামিবিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মাইল অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে গ্রেট আফ্রিকান সি ফরেস্ট। যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪ গুণ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট সাউদার্ন রিফে ৫০০০ মাইল-জুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে গোল্ডেন কেল্প সি ফরেস্ট। গবেষকদের মতে বর্তমানে অরণ্যের গড় বৃদ্ধি ১৪ সেন্টিমিটার।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গবেষণায় জানা গেছে, কার্বনের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রমশ অম্লতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রের। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন জলজ প্রাণী। বিপর্যস্ত হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র। সেখানে দাঁড়িয়ে সামুদ্রিক অরণ্যের বৃদ্ধি আশা জাগাচ্ছে গবেষকদের মধ্যে। শুধু মানব সভ্যতাই নয়, সামুদ্রিক অরণ্যের দৌলতে রক্ষা পাবে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রও। বিশেষত, প্রবাল প্রাচীর ধীরে ধীরে সেরে উঠতে পারে সামুদ্রিক অরণ্যের উপস্থিতিতে। আগামীতে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সমুদ্রেও যাতে এই অরণ্য ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, সেই পরিকল্পনাই করছেন গবেষকরা। তাতে খানিকটা হলেও ক্ষতিপূরণ হবে স্থলজ অরণ্য নিধনের…

Powered by Froala Editor