জোশীমঠের মতোই অতীতে পরিত্যক্ত হয়েছে ভারতের যে-সব শহর!

/৮

পাহাড়ের কোলে ছবির মতো সুন্দর ছোট্ট একটি শহর। সবমিলিয়ে বসবাস ১৭০০ মানুষের। তবে পর্যটকদের আনাগোনা সেখানে লেগেই থাকে গোটাবছর। জোশীমঠ। বিগত কয়েকদিন ধরেই সংবাদপত্রের বার বার উঠে এসেছিল জোশীমঠের নাম। দেখা দিয়েছিল একাধিক বাড়িতে ফাটল। এমনকি গোটা শহর ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনায়, উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার এই শহরকে সম্প্রতি পরিত্যক্ত হিসাবে ঘোষণা করে সরকার।

/৮

তবে শুধুই কি জোশীমঠ? গোটা ভারতজুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে এ-ধরনের একাধিক ছোটো বড়ো শহর। শুধুমাত্র উত্তরাখণ্ডেই রয়েছে এমন শতাধিক ঘোস্ট ভিলেজ। যেগুলি পরিত্যক্ত হয়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার কারণে। দেখে নেওয়া এমনই কিছু পরিত্যক্ত শহরের ইতিবৃত্ত।

/৮

ধনুশকোড়ি, তামিলনাড়ু— বিশ্বের সবচেয়ে ছোটো উপকূলীয় শহরগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল তামিলনাড়ুর এই জনপদটি। একদিকে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে ভারত মহাসাগর। ১৫ কিমি দীর্ঘ এই শহরটি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় ১৯৬৪ সালে। আজও সেখানে গেলে দেখা মিলবে গির্জা, রেলস্টেশন এবং জলের ট্যাঙ্কের ধ্বংসাবশেষ। কথিত রয়েছে লঙ্কা অভিযানের সময় রামচন্দ্র যে সেতু নির্মাণ করেন, সেই সেতুর ওপরেই নাকি গড়ে উঠেছিল ধনুশকোড়ি।

/৮

লাখপত, গুজরাট— ব্রিটিশ শাসনকাল এবং তারও আগে থেকে পশ্চিম ভারতের অন্যতম একটি বন্দর শহর ছিল লাখপত। রেশম এবং কাপড়ের বাণিজ্য চলত এই বন্দরের মাধ্যমে। ১৮১৯ সালে ভূমিকম্পে ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই শহরটি। ধ্বসে পড়েছিল সেখানকার অধিকাংশ বাসস্থান এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামো। সেই কারণেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় লাখপতকে। কচ্ছের রণ পেরিয়ে পাকিস্তানের দিকে এগোলেই চোখে পড়বে ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জনহীন হয়ে থাকা এই নগরীর প্রাচীর।

/৮

সিদ্ধপুর, গুজরাট— পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, পরশুরাম নাকি তাঁর মায়ের শেষকৃত্য করেন এই শহরেই। উত্তর গুজরাটের পাটান জেলায় অবস্থিত এই শহরটিতে মূলত বসবাস করত দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের মানুষরা। পশুপালনই ছিল তাদের জীবিকা। সবুজ চারণভূমির সন্ধানে তারা অন্যত্র স্থানান্তরিত হলে, পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে শহরটি। তবে প্রতিবছর উট উৎসবের সময় বহু মানুষ এই শহরের ওপর দিয়েই হেঁটে যান সবরমতীর তীরে।

/৮

উনাকোটি, ত্রিপুরা— প্রত্নতত্ত্বপ্রেমীদের জন্য এই শহর আক্ষরিক অর্থেই স্বর্ণভাণ্ডার। উনাকোটি গেলেই দেখা মিলবে গোটা শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অজস্র প্রাচীন মন্দির, বাড়ির ধ্বংসাবশেষ, পাথরে খোদাই করা ভাস্কর্য এবং শিবলিঙ্গ। কথিত আছে, শিবের অভিশাপেই বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল এই শহর। কিন্তু কারা বসবাস করতেন এই শহরে? কারাই বা তৈরি করেছিলেন এইসব মন্দির, ভাস্কর্য? সেই প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে পায়নি কেউ।

/৮

কুলধারা, রাজস্থান— জলসলমির থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গেলেই দেখা মিলবে এই আশ্চর্য ঘোস্ট টাউনটির। কুলধারার ইতিহাসও বেশ রোমাঞ্চকর। লোককথা অনুযায়ী, একসময় যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল এই শহর। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সেলিম সিং-এর অত্যাচারেই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। বিশেষত তাঁর নির্যাতনের শিকার হতেন মহিলারা। এই অত্যাচারে ইতি টানতেই গ্রামবাসীরা পরিষদ গঠন করে, তাঁদের পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান অন্যত্র। আজও গেলে দেখা মিলবে ধুলি-ধূসরিত এই শহরের বাইরের কাঠামো।

/৮

এবার ফের ফিরে আসা যাক আজকের সময়। সরকারের ঘোষণায় ইতিমধ্যেই জোশীমঠ ছাড়তে হয়েছে ৬০০-র বেশি পরিবারকে। গবেষকদের অভিমত ক্রমাগত নগরায়ন, পরিকাঠামো নির্মাণ, বৃক্ষচ্ছেদন এবং ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের কারণেই ধীরে ধীরে ধ্বসে পড়ছে জোশীমঠ। তবে এখানেই শেষ নয়। নৈনিতাল, উত্তর কাশীর মতো উত্তরাঞ্চলের শহরগুলিতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি এই তালিকায় রয়েছে দার্জিলিং-ও। এখন দেখার আগামীতে এ-ধরনের বিপর্যয়কে ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেয় সরকার…

Powered by Froala Editor