সূর্য ছাড়াও জন্মাবে বিদ্যুৎ, উদ্ভিজ্জ বর্জ্য থেকে তৈরি সোলার প্যানেল

শাক-সবজির খোসা কিংবা ফসলের অবশিষ্টাংশ— এসব আদতে বায়োডিগ্রেডেবল ঠিকই। কিন্তু তা সত্ত্বেও নানাভাবে তা দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়িতে ব্যবহৃত ফল কিংবা আনাজের খোসা যত্রতত্র ছড়িয়ে যেমন দৃশ্যদূষণ ঘটায়, তেমনই ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ফলে প্রতিবছর শীত পড়লেই ভয়াবহ দূষণের শিকার হয় দিল্লি, নয়ডা, কলকাতার মতো শহর। এবার এই উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকেই কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিশা দেখালেন ফিলিপাইনের এক উদ্ভাবক। তাও আবার সৌরশক্তি (Solar Energy)!

হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই সত্যি! উদ্ভিজ্জ বর্জ্য (Crop Wastes) থেকেই সৌরশক্তি। সম্প্রতি, বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের এমনই অভিনব উপায় দিলেন ২৯ বছর বয়সী ফিলিপিনো উদ্ভাবক কার্ভি এহরেন ম্যাগি। ফসলের অবশিষ্টাংশকে কাজে লাগিয়ে বানিয়ে ফেললেন সৌরপ্যানেল। তবে আমরা যে সোলার প্যানেল দেখে অভ্যস্ত, তার সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। হঠাৎ দেখলে তাকে ফাইবারের রঙিন কাচ বলেই মনে হবে যে কারোর। 

আদতে এই সোলার প্যানেল ফাইবারই। সহজ ভাষায় বললে শাকসবজির অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি রেজিন দিয়েই নির্মিত এই অর্ধস্বচ্ছ সোলার প্যানেল। যা মেঘলা দিনে কিংবা সূর্যের প্রখর তাপ বা আলোর অনুপস্থিতিতেও সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। কার্ভি জানাচ্ছেন, ফসলের বাইরের কোষে ক্লোরোফিলের সঙ্গে উপস্থিত থাকে একাধিক রাসায়নিক পদার্থ। যা সূর্যের আলোর অনুপস্থিতিতে বা মেঘলা দিনেও সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়। মূলত এই ধরনের রাসায়নিক পদার্থগুলি সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মিকে দৃশ্যমান আলোতে পরিণত করে কোষের মধ্যেই, তারপর তা থেকে শক্তি উৎপাদন করে। 

উদ্ভিজ্জ বর্জ্য থেকে এই বিশেষ রাসায়নিক পদার্থগুলিকেই পৃথক করেছেন কার্ভি। তারপর তা দিয়ে তৈরি হয়েছে রেজিনের উইন্ডো প্লেট। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই অভিনব সোলার প্যানেল জানলাতেই লাগানো যায় অনায়াসে। এই প্লেটের প্রান্তবর্তী অঞ্চলে রয়েছে ফটোভোল্টিক সেল। যা সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মিকে পরিণত করবে শক্তিতে। পাশাপাশি লাল, নীল, সবুজ-সহ একাধিক বর্ণের বৈচিত্র থাকায়, তা দৃশ্যত সুন্দরও বটে। 

যদিও এই কোষের শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা প্রচলিত সোলার সেলের মতো ব্যাপক নয়। তবে তা দিয়ে অনায়াসেই একটি ঘরের এলইডি বালব, মোবাইল চার্জার ও অন্যান্য ছোটো বৈদ্যুতিন যন্ত্র চালানো সম্ভব। তাই বা কম কী? ‘অরিয়স’-খ্যাত এই অভিনব সৌর প্যানেল ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি পেয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংগঠনের কাছ থেকে। জিতে নিয়েছে ডিসন ফাউন্ডেশন সাসটেনিবিলিটি অ্যাওয়ার্ড। এখন চেষ্টা চলছে, এই অভিনব সৌর প্যানেলের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার। আর তা সম্ভব হলে আগামীর প্রযুক্তির ইতিহাস বেশ খানিকটা বদলে যাবে, তাতে সন্দেহ নেই কোনো… 

Powered by Froala Editor