কুকুরের মুখে বাঁধা টেপ, খাদ্য-পানীয় ছাড়াই কেটেছে দু-সপ্তাহ; অমানবিক নির্যাতন কেরালায়

কখনও কুকুর, কখনও হাতি। কখনও বা অন্য কোনো জীব। মানুষ কতটা হিংস্র হতে পারে, কতটা নির্মম হতে পারে, এই প্রাণীগুলো প্রতিটা মুহূর্তে সেটা দেখে চলেছে। অনেকে আগলেও রাখছে তাদের, আবার অনেকের অদ্ভুত ‘আনন্দের’ জন্য তাদের জীবন সংশয়ও হচ্ছে। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনার সাক্ষী থাকলাম আমরা। এবারও অকুস্থল সেই কেরালা!

কেরালার ত্রিশূর থেকে সম্প্রতি একটি কুকুরকে উদ্ধার করল পিপল ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার সার্ভিসের (প’স) সদস্যরা। বেশ কয়েকবার ফোন পেয়ে তাঁরা সেখানে যান। গিয়ে যা দেখেন, সেটা এক কথায় নৃশংস! একটি কালো কুকুর বসে আছে রাস্তার কোণে। মুখে শক্ত করে বাঁধা আছে টেপ। এতটাই শক্ত করে বাঁধা, যে চারপাশের চামড়া বসে গিয়ে হাড় ফুটে উঠেছে। এইভাবেই অন্তত দুই সপ্তাহ কুকুরটিকে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই সময় কোনোরকম খাবার তো দূরের কথা, জলটুকুও খেতে পারেনি কুকুরটি। একেবারে কাহিল হয়ে পড়েছিল, হয়ত মারাও যেত না খেতে পেয়ে। যদি না ওই সংগঠনের সদস্যরা না আসতেন… 

সঙ্গে সঙ্গে কুকুরটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টেপ কাটার পর কুকুরটি গোগ্রাসে জল খেতে থাকে। অবস্থাটা ঠিক কীরকম ছিল, সহজেই অনুমেয়। প’সের সদস্যদের মতে, কুকুরটি হয়ত হারিয়ে গিয়েছিল। তখনই কিছু মানুষের খপ্পরে পড়ে, এবং এই অবস্থা হয়। এখন কুকুরটির অবস্থা স্থিতিশীল। তবে এমন ঘটনা বারবার আমাদের চারিদিকে ঘটে চলেছে। কিছু খবরের পাতায় আসে, কিছু আসে না। কয়েকদিন আগেই একটি অন্তঃসত্ত্বা হাতিকে নিষ্ঠুরভাবে মারা হল খাবারের লোভ দেখিয়ে। সেই কেরালাতেই আবারও এমন অমানবিক ঘটনা। নিজেদের মানুষ বলার আগে, একবারও কি ভেবে দেখি না? 

Powered by Froala Editor