জন্মদিনে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়কে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্যের প্রস্তুতি কলকাতায়

“আমাদের পত্রিকার তরফ থেকে আমরা শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে একটি বিশেষ সম্মান প্রদানের আয়োজন করেছি। সেটা বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য সম্মাননার থেকে একটু অন্যরকম। অন্যরকম, কেন-না ও’হেনরি অ্যাওয়ার্ড যেমন হয়, এই পুরস্কার অনেকটা সেই ধাঁচের।” 

বলছিলেন ‘দ্য অ্যান্টোনিম’ পত্রিকার কার্যকারী সম্পাদক বিশ্বদীপ চক্রবর্তী। প্রসঙ্গ কথাকার ও সাহিত্যিক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের (Shyamal Gangopadhyay) ৯০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন। আগামী ২৫ মার্চ, কথাকার শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলার ১১ জন সাহিত্যিককে তাঁর নামাঙ্কিত এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করবে ‘অ্যান্টোনিম’। সেইসঙ্গে ‘অ্যান্টোনিম’ এবং চন্দননগরের ছোটোগল্পের সংগঠন ‘গল্পমেলা’-র যৌথ উদ্যোগে এদিন কলকাতার রোটারি সদনে, সন্ধে ৬টায় আয়োজিত হতে চলেছে বিশেষ এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং প্রদর্শনীর।

বিশ্বদীপবাবুর কথায়, “এই মুহূর্তে বাংলায় প্রচুর পত্রিকা এবং ওয়েবজিন রয়েছে। সেখানে ভালো ভালো গল্প ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিতও হচ্ছে। তবে কোথায় ভালো ছোটোগল্প বেরোচ্ছে সেটা খুঁজে বের করা খুবই মুশকিল হয়ে যায়। অনেকসময় ভালো গল্প খুঁজে পাওয়া যায় না। এই পুরস্কারের মাধ্যমে ভালো গল্প খুঁজে আনাই আমাদের লক্ষ্য।” কথায় কথায় জানা গেল, এই বিপুল কর্মকাণ্ডের আখ্যান। শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতি পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে দুই বাংলাকেই। সঙ্গে বাদ যাননি প্রবাসীরাও। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে প্রকাশিত ৩টি করে সেরা গল্প বেছে পাঠিয়েছিলেন বিভিন্ন বাংলা পত্রিকা ও ওয়েবজিনের সম্পাদকরা। সেই বিপুল গল্পভাণ্ডার ঘেঁটে দেখেছেন তিন বিচারক— কল্যাণ রায়, গৌর বৈরাগী এবং গোপা দত্ত ভৌমিক। তাঁরাই বেছে নিয়েছেন ১১টি সেরা গল্প ও গল্পকারকে। এই তালিকায় রয়েছেন, প্রবুদ্ধ ঘোষ, বিমল লামা, সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরভ হোসেন, মৃত্তিকা মাইতি, রূপা সেনগুপ্ত, প্রতিভা সরকার, পীযূষ রায়চৌধুরী, সাধন দাস, দেবজ্যোতি রায় এবং সাঈদ আজান। আগামী ২৫ তারিখই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বিশেষ এই সম্মাননা। 

উল্লেখ্য, বাংলা ভাষায় প্রকাশিত গল্প, গদ্য কিংবা কবিতার গ্রন্থের জন্য বিভিন্ন সম্মাননা জ্ঞাপন করা হলেও, পত্রিকায় প্রকাশিত সাহিত্য কোথাও গিয়ে যেন উপেক্ষার শিকার হয়েছে এতদিন। গল্পকার শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতি পুরস্কারের হাত ধরেই ইতি পড়তে চলেছে সেই রীতির। তবে শুধু পুরস্কার প্রদানই নয়, একইসঙ্গে এই সেরা ১১টি গল্প ইংরাজিতে অনূদিত হবে বলেই জানালেন বিশ্বদীপবাবু, “এই গল্পগুলির ইংরাজি অনুবাদ সংকলিত করে পরবর্তীতে আমরা একটি বই-ও প্রকাশ করব।”

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সঙ্গেই এদিন আয়োজিত হবে একটি বিশেষ প্রদর্শনী। প্রদর্শিত হবে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের সমস্ত লিখিত গ্রন্থের সংগ্রহ এবং তাঁর জীবনের কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্তের দুর্লভ ছবি। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যরচনা এবং অনুবাদ বিষয়ে থাকছে বিশেষ আলোচনাও। অংশ নেবেন এই সময়ের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দুই পরিচিত মুখ— তিলোত্তমা মজুমদার এবং রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়। “শ্যামলবাবু অতুলপ্রসাদের গান শুনতে খুব ভালোবাসতেন। তাই অতুলপ্রসাদী গানেরও একটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করছি আমরা”, জানালেন বিশ্বদীপ। জানা গেল, এই অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। 

অন্যদিকে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনেই প্রকাশ পাচ্ছে তাঁর উপন্যাস ‘চন্দনেশ্বর জংশন’-এর ইংরাজি অনুবাদ। গ্রন্থটি অনুবাদের নেপথ্যে চৈতী মিত্র। গল্পকার শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের এর চেয়ে ভালো উপায় আর কীই বা হতে পারে? এ যেন গঙ্গাজলেই গঙ্গাপুজোর আয়োজন। পাশাপাশি প্রকাশ পাবে দুই বাংলার ৭ জন মহিলা সাহিত্যিকের অনুবাদ গল্পের একটি বিশেষ সংকলন ‘ফ্লেমিং ফ্লাওয়ারস’। এই গ্রন্থে জায়গা পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ৩ জন করে সাহিত্যিক এবং ১ জন প্রবাসী সাহিত্যিক। সবমিলিয়ে বাংলার গদ্যসাহিত্যকে আরও খানিকটা রঙিন করে তুলবে ‘অ্যান্টোনিম’ ও ‘গল্পমেলা’-র এই যৌথ উদ্যোগ, তাতে সন্দেহ নেই কোনো…

Powered by Froala Editor